সুন্দরবন: আলোকচিত্রীর ডায়েরি থেকে

ফায়হাম ইবনে শরীফ
on May 21, 2015, updated December 15, 2015


 সুন্দরবন: আলোকচিত্রীর ডায়েরি থেকে

৯ ডিসেম্বর বিতর্কিত ও সুন্দরবনের জন্য বিপদ্দজনক নৌ-রুট শ্যালা নদী ব্যবহার করবার সময় দূর্ঘটনায় পড়ে ফার্নেস অয়েল বহনকারী ট্যাংকার ওটি সাউদার্ন স্টার-৭। এরপরই ট্যাংকারে থাকা প্রায় সাড়ে তিন লাখ সাতান্ন হাজার ছয়শো চৌষট্টি লিটার তেলের একটি বড় অংশ পানিতে ছড়িয়ে পড়ে যার পুরো হিসেব এখন পর্যন্ত  মেলেনি। সাথে সাথেই মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে, ইউনেস্কোর দেয়া বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়া সুন্দরবন, এর জীববৈচিত্র্য ও আশেপাশের এলাকায় বসবাসরত এবং বনের উপর নির্ভরশীল মানুষ।
১১ ডিসেম্বর দূর্ঘটনাস্থ শ্যালার নদীর তীরবর্তী জয়মনি গ্রামের মানুষের সাথে কথা বলতে গিয়ে জানা যায়, পুর বিষয়টি নিয়ে তাদের অসহায়ত্ত্বের কথা।  সরকারি সিদ্ধান্ত না আসায় নদীর পানিতে ভাসতে থাকা তেল অপসারণের ব্যাপারে তখনো কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না অধিকাংশ গ্রামবাসী। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুঁকি তো রয়েছেই। এরই মাঝে নদীর পানিতে ভাসতে থাকা তেলের কারণে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে বনের পশুপাখি থেকে শুরু করে গৃহপালিত পশুপাখি মারা যাওয়ার খবর আসতে থাকে। দিশেহারা মানুষ শুধুই চেয়ে থাকে সরকারি কোনো খবরের আশায়।

নদীর মাঝে ততক্ষণে ট্যাংকার উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। ট্যাংকারের মালিক কোম্পানির পাঠানো আর দু’টি জাহাজ নিয়ে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড দু’দিন পর জাহাজটিকে টেনে তোলে। একই সাথে জানা গেলো প্রকতপক্ষে ট্যাংকারের নকশাও ছিলো ত্রুটি।

এরপর শুরু হয় সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনার। আশপাশের এলাকার মানুষকে খালি হাতে তেল অপসারনে উৎসাহিত করবার চেষ্ঠা শুরু করে সরকার। এক্ষেত্রে অবশ্য সরকারি সিদ্ধান্ত আসতে খুব বেশি দেরি হয়নি। মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েই, এলাকাবাসী সে কাজ করে গেছেন নিরলসভাবে। প্রথমে লিটার প্রতি ২০, পরে ৩০ ও এখন পর্যন্ত পাওয়া শেষ খবর অনুযায়ী ৪০ টাকা দরে নদী থেকে উঠানো তেল কিনে নেয়ার ঘোষণা দেয় পদ্মা অয়েল কোম্পানি। তবে শুধু অর্থনৈতিক কারণে নয়, গ্রামবাসি এই কাজে নিজেদের নিবেদিত করেছেন, মূলত বাঁচবার তাগিদে, নিজেদের অজানা ভবিষ্যত নিয়ন্ত্রণে রাখতে। কারণ যে নদী, যে বনের উপর তারা নির্ভরশীল, তাদের রক্ষা করবার দায়িত্ব প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক মেনে চলা এই মানুষদের বুঝতে দেরি হয়নি।

এরই মাঝে জোয়ার ভাটায় তেল গড়িয়েছে অনেক দূর।