বিষয় যখন মানুষের মুখ

আজরাফ আল মূতী
on December 15, 2015, updated January 07, 2016


 বিষয় যখন মানুষের মুখ
নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন ফটোসাংবদিক পিটার টেন হুপেন।

অনেক শৌখিন ও পেশাদার আলোকচিত্রীই ল্যান্ডস্কেপের চেয়ে ‘পোরট্রেইট’ ফটোগ্রাফিতে বেশি আগ্রহী। কিন্তু ‘পোরট্রেইট’ ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটিই হচ্ছে ‘সাবজেক্ট’ এর কাছ থেকে কাঙ্খিত ফলাফল আদায় করে নেওয়া।

আলোকচিত্রবিষয়ক ওয়েবসাইট ফটো ডিস্ট্রিক্ট নিউজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পোরট্রেইট ফটোগ্রাফি বিষয়ে নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন ফটোসাংবদিক পিটার টেন হুপেন।

প্রতিবেদনটির আলোকে চলুন এক নজরে জেনে নেওয়া যাক হুপেন-এর সে পরামর্শগুলো-

১. অপরিচিত কারো পোরট্রেইট তুলতে চাচ্ছেন। এ বিষয়ে হুপেন-এর পরামর্শ হচ্ছে, যার পোরট্রেইট তুলবেন তাকে প্রথমে ভালোভাবে দেখা, তার সঙ্গে কথা বলা এবং একই সময়ে ‘সাবজেক্ট’-এর ক্ষুদ্র ডিটেইলগুলো সম্পর্কে বুঝে নেওয়া।

এতে করে ছবিতে আপনি সাবজেক্টের কোন ডিটেইল-কে বেশি প্রাধান্য দেবেন, সে বিষয়টি আগেই ঠিক করে ফেলতে পারবেন। ফলে ছবি তোলার সময় ডিটেইলস নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামাতে হবে না, অহেতুক সময়ও নষ্ট হবে না।

২. হুপেন জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক দূযোর্গ বা অন্য সমস্যা কবলিত স্থানের কোনো মানুষের পোরট্রেইট তুলতে চাইলে, সবার আগে যে জিনিসটি মাথায় রাখতে হবে তা হচ্ছে, মানুষটি আগে থেকেই সমস্যায় জর্জরিত, তাকে ওই অবস্থায় ছবি তোলার ব্যাপারে রাজি করাতে হবে। আর এ কাজটি করতে তার সঙ্গে প্রথমে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলুন। তারপর তাকে জানান আপনি তার একটি ছবি তুলতে চাচ্ছেন। যদি তিনি মানা করে দেন, তাহলে ছবি তুলতে যাবেন না। কারণ এতে করে হয়তো ছবি পাবেন, কিন্তু সেটি আর যাই হোক পোরট্রেইট হবে না।

৩. যার পোরট্রেইট তুলতে চাচ্ছেন, তার ছবিটি কোথায় ব্যবহার করা হবে তা আগেভাগেই জানিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন হুপেন। কারণ এর ফলে যে শুধু মানুষটি তার ছবির গুরুত্ব সম্পর্কে জানবেন তা নয়, আলোকচিত্রীও ছবিটির গুরুত্ব সম্পর্কে আরও গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারবেন।

৪. কোনো মানুষের পোরট্রেইট তোলার জন্য তাকে রাজি করাতে কোনো জোরাজবরদস্তি না করার পরামর্শ দিয়েছেন হুপেন। এ প্রসঙ্গে হুপেনের মন্তব্য হচ্ছে, তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া যাক, আপনি হয়তো মানুষটিকে রাজি করাতে পেরেছেন। কিন্তু আপনি যে তাকে জোর করে রাজি করিয়েছেন, সে বিষয়টি আপনার তোলা ছবিটিতে পরিষ্কার বুঝা যাবে।

৫. হুপেন বলছেন, সাবজেক্ট-কে সহজ করতে নষ্ট করুন কয়েকটি ক্লিক, তাকে আপনার প্রথম তোলা ছবিগুলো দেখিয়ে জানিয়ে দিন, ছবি তোলার পর্ব শেষ। তারপর তিনি যখন নিজের মতো ঘোরাফেরা শুরু করবেন, ঠিক সে সময়টিতেই ধারণ করুন আপনার কাঙ্খিত পোরট্রেইট। এতে করে সাবজেক্ট-এর প্রকৃত বৈশিষ্ট্য পাওয়া সম্ভব হবে।

অনেকসময় এমনটাও হতে পারে, পরে যে ছবিটি তুলছেন, সে সময় ‘সাবজেক্ট’ টেরও পাচ্ছেন না, আবার তার ছবি তোলা হচ্ছে।

হুপেন এ প্রসঙ্গে নিজ অভিজ্ঞতা থেকে জানিয়েছেন, অনেকেই আছেন যারা ছবি তোলার সময়টিতে আড়ষ্ট হয়ে যান, তাদের জড়তা কাটাতে প্রথমে তোলা ছবিগুলো সাহায্য করে। নিজের ছবি দেখে সাবজেক্ট-এর মধ্যেও আনন্দের সঞ্চার হয়, ফলে তার মধ্যে আর তেমন একটা জড়তা কাজ করে না। পোরট্রেইট তোলার সময় এ কৌশলটি বেশ কাজে দেয় বলেই জানিয়েছেন হুপেন।

৬. পোরট্রেইট তোলার সময় দ্রুত ছবি তোলার পরামর্শ দিয়েছেন হুপেন। কিন্তু একই সঙ্গে তাড়াহুড়ো না করার সতর্কবার্তাও জানিয়েছেন তিনি। যে সময়টিতে ছবি তুলবেন, তখন দ্রুত ছবি তুলুন, তবে মাথায় রাখুন আপনি দ্রুত ছবি তুলছেন কিন্তু তাড়াহুড়ো করছেন না। ফলে একই সঙ্গে আপনার সাবজেক্ট এবং আপনি দু’জনেই স্বস্তিবোধ করবেন।

নতুন আলোকচিত্রীদের জন্য হুপেন-এর পরামর্শ হচ্ছে, যখন আপনি নিজে আগ্রহ ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন, তখন ছবি তুলুন। কারণ আপনি আগ্রহ বোধ করলেই শুধু যে ছবিটি তুলতে চাচ্ছেন, সেটির গুরুত্ব বুঝতে পারবেন এবং ছবিটি আপনি গুরুত্ব সহকারে তুলেছেন কিনা তা আপনার তোলা ছবিটি দেখলেই বুঝা যাবে।