দু’চাকায় আলাস্কা থেকে টরন্টো: পর্ব ২

মুনতাসির মামুন
on May 21, 2015, updated May 21, 2015


 দু’চাকায় আলাস্কা থেকে টরন্টো: পর্ব ২
আর যখন সাইকেলের চাকা কিংবা কোনো কিছুর সমস্যা দেখা দিত? | © ট্র্যাশম্যানিয়াক জলবায়ু সচেতনতা, বিশেষ করে আবর্জনা বিষয়ে সচেতনতার বাণী নিয়ে সম্প্রতি সাইকেল ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন তিন আরোহী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর পশ্চিমে হীমশীতল আলাস্কা থেকে শুরু হওয়া এই

জনশুন্য ক্যাসিয়ার

ব্রিটিশ কলম্বিয়া বা বিসিতে আমরা ক্যাসিয়ার হাইওয়ে ধরবো। এটাই সবার ইচ্ছা। তাই হোয়াইটহর্স থেকে আবার সদায়পাতির স্টক করে নিলাম সবাই। এবার সঙ্গে যোগ দিলো ক্রিস যার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল ১১ বছর আগে এভারেস্ট বেসক্যাম্প ট্রেকিংয়ের সময়।

ক্যাসিয়ার সম্পর্কে আমরা যতটা পারা যায় জেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। এটা একটা পুরোনো হাইওয়ে। এখন আর আগের মতো ব্যবহার হয় না। তাই রাস্তাটা প্রায় পুরোটাই ফাঁকা থাকে। এটাই আমাদের আকৃষ্ট করার অন্যতম প্রধান কারণ। তবে রাস্তায় মানুষ কম থাকা মানে জনবসতিও কম থাকবে। তাই বাড়তি খাবার, রান্না করার জন্য স্টোভের তেল, সবকিছুই ডাবল চেক করে নিলাম। বাইকটা আবারও বেজায় ভারি হয়ে গেল। কিছুই করার নেই।

প্রথম যেদিন ক্যাসিয়ার উঠলাম, যে রোড সাইনটা চোখে পরল তা ক্যাসিয়ার সম্পর্কে সত্যতা জানান দিল– সামনের ২৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সার্ভিস স্টেশন নেই। মানে নেই কোনো দোকান-পাট, গ্যাসস্টেশন। তাই ক্যাম্পও করতে হবে রাস্তার পাশে বা লেকের ধারে। তবে সুবিধেও আছে, এই পথে ক্যাম্প গ্রাউন্ডের সুনামও শুনেছিলাম।

এগিয়ে যাওয়া শুরু করলাম। কি আর হবে! পথে নামলে পথ একসময় শেষ হয়ে যাবেই। প্রথম দিন নাগেট সিটি ক্যাম্প গ্রাউন্ড থেকে বয়া লেক ক্যাম্প গ্রাউন্ডে এলাম। ঢোকার পর আন্দাজ করা যায়নি জায়গাটা কত সুন্দর। সিমন আর মার্টিন আমাদের আগেই পৌঁছে গেছে তাই তাদের ক্যাম্প গ্রাউন্ডেই তাঁবু ফেললাম। তবে সমস্যা করল পাশের আরভি’র মানুষজন। সবে আমরা স্টোভে পাস্তা সিদ্ধ করতে দিয়েছি, পানি কেবল ফুটতে শুরু করেছে। পার্কস কানাডার কর্মী এবং ক্যাম্প গ্রাউন্ডের তত্ত্বাবধায়ক নিজে এসে আমাদের অনুরোধ করলেন আমরা যেন অন্য একটা ক্যাম্প সাইটে সরে যাই। একটা সাইটে ৪ জনের বেশি থাকা যায় না, আর আমরা হলাম ৫ জন। উনি যারপরনাই দুঃখ প্রকাশ করে আমাদের লটবহর সরাতে সাহায্য করলেন। সে রাতে লেক থেকে খানিকটা দূরেই থাকা হলো। গভীর রাতে ক্রিসও যোগ দিল আমাদের সঙ্গে।

তবে পরদিন সকালে দেখলাম বয়া লেকের রূপ। এমনটা শুধু ছবি কিংবা টিভিতেই দেখেছিলাম তবে বাস্তবে যে এমনটা থাকতে পারে তার ধারণাও ছিল না।

কেউ আজকে আর নড়তে রাজি না। সত্যিই এর থেকে বেশি কিছু আশা করা যায় না। নাহ, থেকেই গেলাম সবাই। তবে ক্যাম্প সাইটটা বদলে নিলাম। তত্ত্বাবধায়ক নিজে এসে আমাদের ঠিক লেকের পাশে ঘাসে মোড়া দারুণ জায়গায় ক্যাম্প করার অনুমতি দিলেন। যদিওবা এখানে বাচ্চাদের জন্য খেলার জায়গা ছিলো আর অন্য কারও ক্যাম্প করার অনুমতি ছিলো না। আমরা সাইকেলে আসার কারণেই তার আন্তরিক সহযোগিতা পেলাম। আমরাও ব্যাপক খুশি। এর থেকে ভালো জায়গায় আমরা এর আগে ক্যাম্প করিনি।

এক পা এগুলেই নীল পানির আধারটা আসলে বিশাল। গত রাতে বোঝা যায়নি আসলে কত বড় এই লেকটা। কিছুটা সামনেই একটা জেটির মতো আছে যেখান থেকে কায়াক নিয়ে লেকের পানিতে ঘোরা যায়। কাঠের ভাসমান পাটাতনে ছেলে বুড়ো সবাইকে দেখলাম রোদে বসা। এমন একটা জায়গায় আসলে কিছু না করেও দিন কাটিয়ে দেয়া যায়। আর আলস্যও আসবে না প্রকৃতির এই অপরূপ শোভা ভোগ করতে।

আমরাও কায়াক নিলাম। প্রায় ২ ঘন্টার মতো কায়াক চালালাম। পূর্ব থেকে পশ্চিমে চলে গেলাম হাওয়া আর স্রোতের টানে। পানির রং কখনও নীল, গাঢ় নীল আবার কখনও মায়া করা সবুজাভ। কি অদ্ভুত পরিষ্কার পানি! লেকের তলা অব্দি দেখা যায় অনায়াসে। বালিও একেবারে শুভ্র সাদা।

কিছুটা উত্তরের দিকে এগিয়ে ছোট একটা দ্বীপে নামলাম। আহা! মনে মনে নিজেকে কলম্বাস মনে হলো। তবে নাহ! আমাদের আগে আরও অনেকে এসেছে এখানে। বিভার ড্যাম দেখা গেল। বিভার একটা প্রাণী, দেখতে উদের মত। কম পানিতে নলখাগড়া আর ডালপালা দিয়ে তারা এক ধরনের বাধ তৈরি করে এবং তার নিচেই গ্রীষ্মকালে খাবার সঞ্চয় করে রাখে যাতে শীতে তাদের খাবার সমস্যা না হয়। বিভার কানাডার বেশ পরিচিত প্রাণীগুলোর অন্যতম।

দুপুরে সবাই মিলে খাওয়া হল। তবে রান্নার ঝক্কি কেউ আর পোহাতে চাইল না। শুকনো খাবার যা ছিল তা-ই। বিকালে দারুণ সুন্দর একটা ট্রেকে বের হলাম। ঘন্টাখানেকের ট্রেক। লেকের কোল ঘিরে আঁকাবাঁকা পথে এগিয়ে যাওয়া আর পাখির দারুণ কলতানে মুগ্ধ হয়ে পরন্ত বিকালের তীর্যক আলোয় লেকের আরেক রূপ উপভোগ করা। আহ্।

দিজ লেকে আমরা সব কিছু পাবো। শুরুর প্রায় তিন দিন পর আমরা দিজ লেকে পৌঁছলাম। একটা আরভি পার্ক আছে। সেখানেই হানা দিলাম। কিন্তু কি আশ্চর্য– একটা ছোট বোর্ডে লেখা ‘নো টেন্টিং’। জীবনে প্রথমবার এমন কিছু দেখলাম মনে হয়। বিশ্বাস হলো না। তবে অফিসে কথা বলার পর আমাদের মোহ ভাঙ্গল। নাহ, নাছোরবান্দা। শুধু আরভিই এখানে থাকতে পারবে। অগত্যা বাজারসদাই করে স্থানীয়দের সাহায্য নিয়ে কাছের একটা লেকের পাড়ে যখন আমরা তাঁবু ফেলছি, তখন বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা, সঙ্গে হঠাৎ করেই নামল বৃষ্টি। তড়িঘড়ি করে আমরা সিমন আর মার্টিনদের তাঁবুতে ঢুকে নিজেদের রক্ষা করলাম। ভাগ্য ভালো বলতে হয়, বৃষ্টি বেশিক্ষণ থাকল না। নিজেদের তাঁবু গুছিয়ে রান্নার ব্যবস্থা যখন করছি তখন পিছিয়ে পড়া ক্রিস আর কনক ভাই চলে এলেন। আর আমাদের সর্তক করার জন্য স্থানীয় এক ভদ্রলোক এটিভিতে চড়ে আমাদের বলে গেলেন, এই লেকের পাড়ে ভাল্লুক দেখতে পাওয়া খুব অস্বাভাবিক না। তাই ভাল হয় যদি একটা আগুনের ব্যবস্থা করা যায়। তিনি যেতে না যেতেই আগুনের জন্য কাঠখর খুঁজে বড়সড় একটা আগুন জ্বালানো হলো। এর মধ্যে সবার জন্য রান্না করাও হয়ে গেছে। আর অনেকদিন পর লাল চালের ভাতের সঙ্গে ডিম ভাজি খেলাম। ততক্ষণে আমাদের সবার হেড ল্যাম্প জ্বলে গেছে। এই অন্ধকারটাও ভালো লাগছিল না। আগুনও উস্কে দেয়া হলো যতটা পারা যায়। খাবারের প্যানিয়ারটাকে যতটা দূরে রেখে আসা যায়, রেখে আসা হলো।

তাঁবুতে ফিরে আর কারও ঘুম আসে না। এক তাবু থেকে অন্য তাঁবুতে কথা বলা শুরু হলো। মনে হয় ভাল্লুক তাড়াবার জন্যই সবার এই বাড়তি সর্তকতা। ঘুম চলে এলো কখন তা বলতে না পারলেও পাখির ডাকে সকাল হলো। কুইক রেডি হয়ে চালানো শুরু করলাম।

ইসকুটে আমাদের থাকার কোনো পরিকল্পনা ছিলো না। কেননা বয়ালেকে আমরা দুই রাত কাটিয়ে দিয়েছি। কিন্তু স্থানীয়দের মিউজিক ফেস্টিভালটাকে অবহেলা করা গেল না। তাই আরেকটা রাত বেশি থাকা হলো ইসকুটের ‘সেকরেড হেডওয়াটার’ গ্যাদারিংয়ে। বাৎসরিক এই অনুষ্ঠানে দু-তিন দিন গান হয় আর ছোট একটা মেলাও বসে। আমরাও স্থানীয়দের মধ্যে মিশে গেলাম।

ক্যাসিয়ারের সবচেয়ে মজার বা অতি ভয়াবহ রাত ছিল ‘বব কুইন’ এয়ার স্ট্রিপে ক্যাম্প করাটা। না, আর কোথাও ক্যাম্প করার মতো কোনো জায়গা ছিল না। সেই রাতে যত পদের জন্তু জানোয়ারের আওয়াজ পেয়েছিলাম তা আর কোথাও পাইনি। এয়ার স্ট্রিপটাতে ছোট আকারের প্লেন নামে। তাই কোনো অফিস নেই। একটা বিশালাকার তেলের ট্যাংক আর বিশাল একটা ফাঁকা জায়গা, ব্যাস। আমাদের দরকার ছিল পানি, যা রাস্তার পাশের ঝিরি থেকে সংগ্রহ করা হল। আর কোন কিছুর দরকার সে রাতে আর লাগেনি আমাদের।

মেজিয়াদিন লেকটাও দারুণ ছিল যার জন্য এখানেও আমাদের দু’রাত থাকা হলো। লেক ক্যাম্প গ্রাউন্ড থেকে বেরুবার পর কিছুটা উপরের দিকে উঠতে হয় কিন্তু তার পর রাস্তা আসলেও দারুণ। সিমন-মার্টিন চলে যাবে অন্য দিকে। ওরা হাইডেন এর দিকে যাবে আর তারপর ভ্যাঙ্কুভার আইল্যান্ডের দিকে, আর আমরা টরন্টো। একটা দক্ষিণমুখী আরেকটা পূর্ব।

 

অনেক রাইডের পর ঈদ এল জ্যাসপারে

অ্যালবার্টার জ্যাসপারে আমরা ঈদ করব এমনটাই পরিকল্পনা। জ্যাসপার শহরটাই একটা পার্কের মধ্যে। পার্কস কানাডার অন্যতম জনপ্রিয় এই পার্ক। আসলে পার্ক বলতে আমরা যা বুঝি, এখানকার পার্কগুলো পুরোই আলাদা। আয়তনে আমাদের দেশের চেয়েও খানিকটা বড়ই হবে সম্ভবত। জন্তু-জানোয়ার থেকে শুরু করে সবই আছে। তবে এটাকে চিড়িয়াখানা বলাটাও ভুল হবে। জ্যাসপার শহরটাই দারুণ। আঁকাবাঁকা পাহাড়ী পথে উঠে গিয়ে ছোট্ট একটা শহর। সবই আছে। মূলত পর্যটকনির্ভর অর্থনীতি। তাই রাস্তার পাশের ক্যাফেগুলোও বেশ জমজমাট। দু’একটা হোটেল দেখলাম কিন্তু তার যে চড়া ভাড়া, তা আর বলতে! আমাদের ইচ্ছাও ছিলো না।

শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে প্রথম ক্যাম্প গ্রাউন্ড। হুইসলার! আমাদের দেখা সবচেয়ে বড় ক্যাম্প গ্রাউন্ড এটা; ৮৪০টিরও বেশি ক্যাম্প সাইট। কে জানে, হয়ত এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্যাম্প গ্রাউন্ড। জ্যাসপার শহরের মোট জনসংখ্যার সিংহভাগ যে এখানে থাকে সে আর বলতে!

ঈদ এখানেই করা হবে। তাঁবু ফেলে সেদিনের মত আর কিছু করা হলো না। পরের দিন শহরে গিয়ে রাতের খাবার কিনে আনা হলো। কাল ঈদ। সকালে উঠে আর নামাজের ঝামেলা নেই। দেরি করেই উঠলাম। সকালের নাস্তা যথারীতি ওটমিল। বেলা একটু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরাও নতুন জামাকাপড় পরে নিলাম। আমি আর কনক ভাই ফতুয়া, আর সারাহ পরেছিল শাড়ি। আমরা যখন এমন বেশভুষা নিয়ে রেডি হচ্ছিলাম তখন দেখা গেল আশপাশের ক্যাম্পগ্রাউন্ড থেকে আমাদের দিকে উঁকি দিচ্ছে কেউ কেউ। একজন কৌতুহল ধরে রাখতে না পেরে সারাহকে জিজ্ঞেসই করে বসলো, এটা কেমন ড্রেস! ঈদের বর্ণনা দিয়ে আমরা সাইকেল নিয়ে বের হলাম। এমন কস্টিউম দেখে আমাদেরকে যে সবাই আড়চোখে দেখছে তা বুঝতে পারলাম।

ঢাকাতেও একই ট্যান্ডেমে আমরা একইরকম পোশাকে পয়লা বৈশাখে সাইকেল চালিয়েছিলাম বটে, তবে এখানে বেশ আলাদা। রাস্তা যেহেতু উঁচু-নিচু তাই প্যাডল করাটাও বেশ কষ্টের।

একটা সড়কদ্বীপে সাইকেল রাখার জায়গা ছিল, ওখানে সাইকেল রেখে ছোট বেলায় আমরা যেমন পাড়া বেড়াতাম ঈদের দিন, আজও তাই করলাম। এরচেয়ে বিশেষ কিছু করার নেই আমাদের। খারাপ লাগলো না। তিনজন মিলে এটাওটা কিনে, গত কয়েক সপ্তাহের যে লন্ড্রি বাকি ছিল তা করে সন্ধ্যার আগে ক্যাম্প গ্রাউন্ডে ফিরে এলাম।

বেশ কয়েক পদের রান্না করা হলো। আহ, আজ আবার ভাত খাওয়া হবে! ভাত রান্নায় একটু সময় বেশি লাগে এই যা। না হলে ভেতো বাঙালির জন্য ভাত ছাড়া আর কিছুতে পেট ভরলেও মন ভরে না।

আমাদের ‘মকবুলে মকসুদ’ হলো ব্যান্ফ। লেক লুইস হয়ে আমাদের যেতে হবে। কিন্তু তার আগের দিনগুলোতে আমাদের দারুণ ঝক্কি পোহাতে হল ক্যাম্প করতে গিয়ে। ৪ দিনে লম্বা ছুটিতে সবাই এখন ঘরের বাইরে আর তাই আমরা যে জায়াগাগুলোতে ক্যাম্প করব সে জায়গাগুলো আগে থেকেই বুকড হয়ে ছিল।

সবচেয়ে বড় উদাহরণ লেক লুইজ। দুইটা বিশাল আকারের ক্যাম্প গ্রাউন্ড তার উপর আছে অনেক পদের হোটেল-মোটেল। ক্যাম্প গ্রাউন্ডটা দূরে থাকায় আর ক্লান্ত লাগার জন্যই মোটেল দেখলাম? বিধ্বস্ত সারাহকে দেখেই মনে হল খবর ভালো না। সব থেকে কমদামের রুমের ভাড়া হলো ৩৪০ ডলার তার উপর আবার ট্যাক্স আছে। হোস্টেলে গেলাম। বলে কি! ৪৫ ডলার করে করে একজনের? নাহ! আমাদের জন্য ক্যাম্পই ভাল।

পরের দিন ব্যান্ফ। এই শহর আমাদের কাছে আগে থেকেই পরিচিত ছিল মাউন্টেন ফিল্ম ফেস্টিভালের জন্য। তাই ছবি বা ভিডিও দেখা হলেও একটা শহর যে আসলেও এতটা সুন্দর হতে পারে ধারণাও করা যায় না। রোড সাইন দেখে ব্যান্ফ সেন্টারের দিকেই এগোলাম। ওখানেই আমাদের পরের কতগুলো দিন থাকা হলো।

এটা একটা আর্ট ইন্সটিটিউট যেখানে বিভিন্ন দেশের মানুষজন আসে পড়ালেখা করতে। আমাদের থাকার ব্যবস্থা হলো এখানেই। এতদিন পর মনে হল সভ্যতার কত কাছাকাছি থেকেও আমরা আদতে কতটা দূরেরই ছিলাম এতদিন।

বন্ধুদের সঙ্গে ডিনারে অনেক আড্ডা হল। পেটপুরে খাওয়াও হলো। কেউ কিছু মনেও করলো না। এটা আর বলে দিতে হয়নি আমাদের ক্ষুধাটা এখন কত বেশি। কয় সপ্তাহ আগেই ২৩ ডলারে পেটচুক্তি বুফেতে আমরা সাতজন এতই খেয়েছিলাম যে, তাদের খাবারে সংকট দেখা দিয়েছিল– এ গল্প ব্যান্ফ মাউন্টেন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ওয়ার্ল্ড টুর ম্যনেজার জিম আর কারিনকে করেছিলাম যাতে করে তারা আমাদের খাওয়া দেখে ভিড়মি না খায়।

এখান থেকে কনক ভাই চলে গেলেন ঢাকায়। ক্যালগারি থেকে তার ফ্লাইট আর ক্রিসও আমাদেও সঙ্গে তাল রাখতে না পেয়ে একাই চালাচ্ছে। এখন থেকে আমি আর সারাহ।

(পরের পর্বে সমাপ্য)