এনসেল অ্যাডামস

আব্দুল্লাহ জায়েদ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
on May 28, 2015, updated December 15, 2015


 এনসেল অ্যাডামস

এনসেল অ্যাডামস কেবল আলোকচিত্রিই ছিলেন না, তিনি একইসঙ্গে ছিলেন আলোকচিত্র বিষয়ে গবেষক, সংগঠক ও লেখক। তার তোলা ল্যান্ডস্কেপ আমেরিকার বুনো সৌন্দর্যকে নতুন করে চিনিয়েছে। আলোকচিত্র গ্রহণে সঠিক এক্সপোজার সেট করার জন্য বহুল ব্যবহৃত জোন সিস্টেমের তিনি সহউদ্ভাবক।

এনসেল অ্যাডামসের জন্ম ১৯০২ সালে। ধনী পরিবারে জন্ম হলেও ১২ বছর বয়সেই স্কুল ছাড়তে হয়েছিল অ্যাডামসকে। তার বাবা চাইছিলেন স্কুল বাদ দিয়ে অ্যাডামস গ্রিক ভাষা আর পিয়ানোর পেছনে তার পুরোটা সময় দিক।

গ্রিক ভাষা আর পিয়ানোর মধ্যে পিয়ানো বাজানোই বেশি পছন্দের ছিল অ্যাডামসের। কিন্তু পল স্ট্র্যান্ডের তোলা ছবির নেগেটিভ দেখে মাথায় চাপে ফটোগ্রাফির ভূত! সেখান থেকেই শুরু এই ফটোগ্রাফি গুরুর।

১৯৩২ সালে ফটোগ্রাফার বন্ধুদের নিয়ে অ্যাডামস গড়ে তোলেন এফ/৬৪ নামে আলোকচিত্রিদের একটি ক্লাব। দলটির সদস্যরা উঠেপড়ে লেগেছিলেন একটি ছবির গোটা অংশে কী করে ফোকাসে রাখা যায় সেই রহস্য সমাধানে।
বাজারে প্রচলিত সর্বাধুনিক ক্যামেরাতেও এখন সাধারণত এফ/৪৪-এর চেয়ে ছোট অ্যাপারচারে ছবি তোলার সুযোগ থাকে না। আর এফ/৬৪-এর সদস্যরা সেই ত্রিশের দশকেই এফ/৬৪ অ্যাপারচারে ছবি তোলার উপায় খুঁজে বের করে নিয়েছিলেন। সবচেয়ে স্পষ্ট ছবি কীভাবে তুলবেন সেটা রীতিমতো ‘বাতিকের’ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তারা।

চল্লিশের দশকের শুরুতে ‘জোন সিস্টেম’ দাঁড় করান অ্যাডামস। সঙ্গে ছিলেন ফ্রেড আর্চার। এই জোন সিস্টেমের মাধ্যমেই কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ আলোয় ছবি তুলতে ঠিক কোন এক্সপোজার সেট করা দরকার সেটি নির্ধারণ করতে পারেন একজন আলোকচিত্রি। আধুনিকতম ক্যামেরাতেও যে আইএসও, অ্যাপারচার আর শাটারস্পিডের হিসেবে থাকে, তা এনসেল অ্যাডামসের প্রবর্তিত জোন সিস্টেমের অনুসরণেই সেট করা থাকে। ১৯৪৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়া স্কুল অফ ফাইন আর্টসে প্রতিষ্ঠা করেন ফটোগ্রাফি বিভাগ।

পছন্দের ল্যান্ডস্কেপ ছবি পেতে অ্যাডামস তার জীবনের বড় একটা সময় ব্যয় করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্কগুলোতে। তার লেখা ৪০টিরও বেশি বই প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এর মধ্যে দ্য ক্যামেরা, দ্য নেগেটিভ এবং দ্য প্রিন্টকে বিবেচনা করা হয় আলোকচিত্র বিষয়ে সাধারণ পাঠকদের জন্য প্রথম মৌলিক কারিগরি প্রকাশনা হিসেবে।

কারিগরি বিষয়ের বাইরে অ্যাডামস মার্কিন ন্যাশনাল পার্কের প্রতি সাধারণ নাগরিকদের আগ্রহ ও দরদ বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন লাগাতার।